
মোহাইমিনুল ইসলাম উলিপুর,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অফিসের কাজে বহিরাগতদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এবং ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।অনুসন্ধান ও সরেজমিনে দেখা যায়, মাসুদ রানা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অফিসে দালালদের তৎপরতা বেড়েছে। এমনকি দুজন বহিরাগত ব্যক্তি দিয়ে কম্পিউটারের কাজ ও সরকারি রেজিস্টার-রেকর্ড বই পরিচালনার কাজ করানো হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) কম আদায়ের লোভ দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, আর টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখা হয়। এছাড়া নামজারির জন্য ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং প্রতিটি নামজারি প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাগ্রহীতা বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে একটি নামজারির বিষয়ে তহশিলদার মাসুদ রানার সঙ্গে কথা হয়। তখন কাজটি করে দেওয়ার জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি চাকরির কারণে বাইরে থাকায় ছোট ভাইকে পাঠিয়েছিলেন। পরে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে নিজে অফিসে গেলে তাঁর কাছে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে দরকষাকষি করে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেন ওই তহশিলদার। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি প্রথমে ১ হাজার টাকা দেন। টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে দেন। সেটিও যখন দিয়ে লাভ হয় না, তখন তহশিলদারের পক্ষ থেকে আরও ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে টাকা কম হওয়ায় ওই ভূমি কর্মকর্তাকে একপর্যায়ে ৫০০ টাকা কম দেওয়া লছ হয়েছে বলেও ভিডিওতে বলতে শোনা যায়।ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়,ওই ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আগে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে প্রতি নথিতে ১ হাজার টাকা করে নিতেন।অভিযোগের বিষয়ে তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,যদি নিয়ে থাকি, তাহলে আমি সংশোধন হবো।উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























