
মোহাইমিনুল ইসলাম উলিপুর: কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ববিরোধের জেরে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল মতিন গং দের বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ মালেকুজ্জামান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ সরাইপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী মালেকুজ্জামানের সঙ্গে অভিযুক্ত রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল মতিন গং দের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পাঁচটি নির্মাণাধীন পাকা কক্ষ, দুটি ছাদ ঢালাই করা কক্ষ ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় বাধা দিতে গেলে মালেকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পাশের মাটিয়াল আল মোজাদেদিয়া দ্বীনি দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুরে বাধা দেয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর আবারও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া নির্মাণাধীন বাড়ির ভেতরে রাখা টিন, কাঠ, সিমেন্ট, লোহার দরজা, শাটার, জানালা, রড ও ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা। ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়াসহ মোট ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ঘটনায় রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল মতিন সহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত রোস্তম আলী ও মোহাম্মদ আলী ভাঙ্গচুরের ঘটনা স্বীকার করে জানান, আমাদের জায়গায় মালেকুজ্জামান ইস্রাফিলরা জোড় করে দেয়াল তুলছে তাই আমরা ইটের দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছি।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, এ ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।





























