
বিপ্লব দাস : বিশেষ প্রতিনিধি-:চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত সদস্য ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান চৌধুরী। তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণাকে ঘিরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা ও আগ্রহ। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্ব, মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন স্থানীয়রা।মো. হাসান চৌধুরী ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদের ওয়ারিশ পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন। ৫নং ওয়ার্ড থেকে টানা তিনবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে হাসান চৌধুরী সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ, খালপাড়ে ব্লক স্থাপন, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, স্কুল-মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা, মসজিদ, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের সংস্কার এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশন, বোয়ালখালী শাখার সভাপতি অসীম বড়ুয়া বলেন, “হাসান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার মানসিকতা একজন জনপ্রতিনিধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাঁর দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততাকে ইতিবাচকভাবে দেখি।”ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দোলন দে বলেন, “হাসান চৌধুরী শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত মানুষ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা সমস্যায় তাঁকে পাশে পাওয়া যায়। চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণায় আমরা আশাবাদী।”সমাজসেবক মুজিবুর রহমান তৌহিদ বলেন, “দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে হাসান চৌধুরীর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। আগামী দিনে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।”স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় হাসান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে আসছেন। ব্যক্তিগত সমস্যা, এলাকার নাগরিক সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।ধর্ম-বর্ণ ও মতের ভিন্নতা ভুলে সবার সঙ্গে সমানভাবে যোগাযোগ রাখার বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছে। মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষায় তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের মতে, শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।টানা তিনবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে হাসান চৌধুরীর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে ইউনিয়নের বাস্তব চিত্র ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তা কাছ থেকে বোঝার সুযোগ দিয়েছে। এ কারণে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন অনেকেই।চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মো. হাসান চৌধুরী বলেন, “মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কাজ ও প্রাপ্তি। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাঁদের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমাকে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। আগামী দিনেও মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।”তিনি বলেন, “শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নের উন্নয়নের যে ধারা রয়েছে, সেটিকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আধুনিক সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব।”হাসান চৌধুরী আরও বলেন, “শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা। উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, সামাজিক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। এজন্য ইউনিয়নবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।”এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হাসান চৌধুরীর প্রার্থিতা ঘোষণার পর স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা, টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা, বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁকে চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমীকরণ, অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্ভর করবে। এরই মধ্যে হাসান চৌধুরীর প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই দায়িত্ব গ্রহণ করুন না কেন, শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোর বিকাশ, জননিরাপত্তা এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. হাসান চৌধুরী।




























