
মজমুল হক গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি : গঙ্গাচড়ায় আরিফা বেগম (২১) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের ছিল্লানির মাজার এলাকায় স্বামীর বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শয়নকক্ষের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আরিফা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরিফা দক্ষিণ কোলকোন্দ ছিল্লানির মাজার এলাকার শামীম মিয়ার স্ত্রী ও গজঘন্টা ওমর এলাকার মৃত এমাদুলের মেয়ে। তিনি এক কন্যাসন্তানের মা।
আরিফার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে শামীমের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে হয় তাঁর। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য আরিফাকে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপরও আরিফাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
আরিফার মা রওশন বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, আমার নাতনিকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফার শাশুড়ি আফরোজা বেগম ঢাকার লাকসামে ছিলেন। ঘটনার দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। আরিফার ননদ শিমুও ঘটনার সময় ওই বাড়িতে ছিলেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর আরিফার স্বামী শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে রাতেই গঙ্গাচড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নেওয়া হয়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শুধু অভিযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























