
মোঃ সজিব খান (শিবচর)
পরশ্রম এবং মেধার সঠিক সমন্বয় থাকলে যে সফল হওয়া যায় তার ই এক নজির গড়েছেন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার সফল উদ্যোক্তা রাসেল মিয়া। দত্তপাড়া ইউনিয়নের এই যুবক প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে বাবার হাতে গড়া মাত্র দেড় বিঘার বাগান বুঝে নেন। আধুনিক চাষাবাদে ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে সেই বাগান এখন পৌছে গেছে প্রায় আট বিঘায়। বর্তমানে পেয়ারা, মালটা, কমলা, ড্রাগন ফল ও লেবুর চাষ করে তিনি এলাকার একজন সফল বাগান উদ্যোক্তা হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাসেল মিয়া জানান, ২০২১ সালের শেষ দিকে তিনি বাবার বাগানের দায়িত্ব নেন। শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। চলতি মৌসুমে বিশেষ করে পেয়ারার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। পেয়ারার আকার বড়, স্বাদও মিষ্টি হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেয়ারা মান ভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি বাগান থেকেই খুচরা বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে তাজা পেয়ারা সংগ্রহ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, রাসেল ভাইয়ের বাগানের পেয়ারা ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু বলে শুনে এখানে এসেছি। বাগান ঘুরে দেখলাম, পরিবেশও খুব সুন্দর। গাছ থেকে নিজ হাতে তাজা পেয়ারা পেড়ে কিনে নেওয়ার সুযোগ সত্যিই আনন্দের। এমন নিরাপদ ও মানসম্মত ফল সহজে পাওয়া যায় না।
রাসেল মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি শিখে বাগানের পরিচর্যা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে এখন অনেক ভালো ফলন হচ্ছে। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি খুচরা বিক্রিও করছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ফল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে শিবচরে প্রায় সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হেক্টর জমিতে পেয়ারা, ৩ হেক্টর জমিতে মালডা এবং ১ হেক্টর জমিতে কমলার আবাদ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান বলেন, কৃষকদের আমরা সার্বক্ষণিক কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের চারা সরবরাহ এবং কৃষিঋণের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাস ফেরত এই যুবক শিবচরের যুব সমজের আইকন হতে পারেন বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।





























