
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
ট্রেনের ময়লার ঝুড়িতে পেয়েছিলেন দুটি জর্দার কৌটা। শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন বিধায় সেটি নিজের কাছে রেখেও দিয়েছিলেন তাকে দেওয়ার জন্য।
একটি কল পেয়ে তিনি কৌটা খুলে দেখেন, এতে আছে স্বর্ণালংকার ও টাকা। এবার অবশ্য না রেখে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মো. মোশারফ হোসেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিয়েও দিয়েছেন। মহানগর গোধূলি ট্রেনে স্টুয়ার্ড গার্ড হিসেবে কর্মরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলীর বাসিন্দা মো. মোশারফ হোসেন তার এই দৃষ্টান্তের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করছেন।
ঘটনার শুরু গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনের খাবার গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রী ময়লার ঝুড়িতে দুটি জর্দার কৌটা ফেলে যান। কৌটাগুলো খালি মনে করে ওই নারী এগুলো ফেলে দেন।
ওই দুই কৌটার একটিতে স্বর্ণের চেইন ও আরেকটি নগদ দুই হাজার টাকা ছিল। ট্রেনে চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে জর্দার কৌটায় স্বর্ণালংকার ও টাকা রাখা হলেও ওই নারী বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন।
এদিকে ওই যাত্রী কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন ওই নারী। এরই মধ্যে ট্রেনে জরিমানা গুনতে হওয়া টিকিটের গায়ে একটি ফোন নম্বর দেখতে পান।
সেই নম্বরে কল করা হলে হারিয়ে যাওয়া জিনিসের সন্ধান পান তিনি।
মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাতে আম খেয়ে খোসা ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে গিয়ে দেখি জর্দার কৌটা পলিথিন মোড়ানো। আমার শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন বিধায় ওনার জন্য এগুলো রেখে দিই। এরই মধ্যে আমার কাছে ফোন আসে স্বর্ণ ও টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। তখন আমি জানাই যে এমন কিছুই পাইনি। এ সময় ওই প্রান্ত থেকে বলা হয় জর্দার কৌটায় এগুলো ছিল। কথা শুনেই আমি জানিয়ে দিই যে কৌটাগুলো আমার কাছে আছে। পরে খুলে দেখি এতে একটি স্বর্ণের চেইন ও দুই হাজার টাকা আছে। মহানগর ট্রেনটি রাতে নিশিথা এক্সপ্রেস হয়ে চট্টগ্রামের দিকে ফেরার পথে যাত্রীর স্বজনের কাছে এগুলো বুঝিয়ে দিই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যের জিনিস আমি কেন রাখব! এটা ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার খুব ভালো লেগেছে। চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছর চলছে। ওই সময়ে আরো যাত্রীর কিছু জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি।





























