
সাআদ মাহমুদ, হালুয়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নিখোঁজের একদিন পর পুকুরের পানিতে ভেসে উঠল চার বছরের শিশু মাসতুরা বেগমের মরদেহ। গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল গ্রামের মো. সোহেল (৩২), মেহেদী (২৯), মো. রাসেল (২৫) ও তাদের বাবা মো. জিন্নত আলী (৬০)। তারা সবাই ধুরাইল এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা মো. সাঈদ ও মা মোছা. সুমি আক্তার গাজীপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। গত ৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার পর বাড়িতে থাকা চার বছরের মেয়ে মাসতুরা বেগমকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও মাসতুরার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিবেশী মজিবর রহমানের বাড়ির উত্তর পাশে পুকুরের পাড়সংলগ্ন পানিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হলে পরিবারের সদস্যরা সেটি মাসতুরার বলে শনাক্ত করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আরও রহস্যের জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, শিশুটির গলায় লাল ও হালকা নীল রঙের পুরোনো একটি গামছা গিট বাঁধা অবস্থায় ছিল। এ কারণে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করেন স্বজনরা। শিশুটির বাবা মো. সাঈদ এ ঘটনায় জমি-জমা নিয়ে পূর্ববিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে ওই চারজনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পুকুরের পানিতে ফেলে দিতে পারে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে শিশুটিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।





























