
আকির হোসেন, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি;
মরণব্যাধি ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন গার্মেন্টসকর্মী হেনা আক্তার। তবে নিজের শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও তাকে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। চোখের সামনে কচি দুটি মুখ অসুস্থ হেনা আক্তারের এখন একটাই আকুতি, সন্তানদের ছেড়ে যেন তাকে চলে যেতে না হয়।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের খালুয়া গ্রামের হেনা আক্তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করা টাকা দিয়ে স্বপ্ন বুুনছিলেন দুই সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার। কিন্তু হঠাৎ ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ায় সেই হাসিখুশি সংসারটিতে নেমে এসেছে বিষাদের ঘন কালো ছায়া।
বাবা কালাচান ফকির এবং স্বামী বাবুল মিয়া দুজনই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। অতিকষ্টে সংসার সামলানো পরিবারটির পক্ষে ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালানো একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে জমানো যা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে।
কোলজুড়ে থাকা দুটি অবুঝ সন্তানের দিকে তাকিয়ে বুকফাটা হাহাকার করছেন হেনার স্বজনরা। হেনার ভাই সারোয়ার হোসেন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, "আমার বোনটার ছোট ছোট দুটি সন্তান আছে। ওরা এখনো বুঝতেও পারে না ওদের মায়ের কী হয়েছে। সন্তান দুটোর কথা চিন্তা করেই বোনটা বাঁচতে চায়। আপনাদের একটু সাহায্য পেলে হয়তো ও সুচিকিৎসা পাবে এবং অবুঝ বাচ্চা দুটো তাদের মাকে হারাবে না।"
দেশের তৈরি পোশাক খাতে যে ৫৫.৫৭ শতাংশ নারী শ্রমিক অবদান রাখছেন, হেনা আক্তার তাদেরই একজন। এই অসহায় মা যেন তার দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন সেজন্য বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।





























