
মোহাইমিনুল ইসলাম উলিপুর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের রেলগেট বাজার থেকে কবিরাজপাড়া এবং রেলগেট বাজার থেকে ফয়জার মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশল মানদণ্ড উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এমনকি রাতের আঁধারে বিটুমিন প্রাইম কোট (তেল) ছাড়াই কার্পেটিং করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সড়কটির সংস্কার কাজের চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৭ টাকা ৫ পয়সা (১৩,৬২৩,৭৯৭.০৫ টাকা)। এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মাণকাজ হলেও এর গুণগত মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, আগের রাত থেকে জাফর মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে বাবলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত অংশে অন্ধকারে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার বেড তৈরিতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কার না করেই বিটুমিন ও পিচ ঢেলে কার্পেটিং করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাজ শেষ হওয়ার আগেই শ্রীবল্লভ কবিরাজপাড়া এলাকার কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে এবং রাস্তার কিনারায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কাজ শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল, ঈমান আলী, মাজেদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তা ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালা হচ্ছে। ফলে সহজেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকারি টাকায় নির্মিত সড়কে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও জানান, প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব সরকারি নকশা অনুযায়ী প্রায় ২৫ মিলিমিটার (প্রায় ১ ইঞ্চি) হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পর্যাপ্ত রোলার ব্যবহার না করায় অনেক স্থানে কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন,আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। এরপরও তারা কাজ করছে। এখন কি আমি মারামারি করে কাজ বন্ধ করব?
তার এ বক্তব্য এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন,আমি নিজেই সাইট পরিদর্শন করেছি এবং ল্যাব পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছি। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এই সড়ক প্রকল্পের কাজ দ্রুত তদন্ত করে নির্মাণমান যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এবং সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।





























