
স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের নানা আয়োজন, স্লোগান ও প্রতিশ্রুতিতে যখন চারপাশ মুখর,তখন নীরবেই সামনে উঠে এসেছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি Tanguar Haor-এর কঠিন বাস্তবতা।প্রকৃতির অনন্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই হাওর আজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস,পরিবেশগত চাপ ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় গভীর সংকটে রয়েছে।বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area—ECA)ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১০ জুলাই এটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে রামসার সাইট স্বীকৃতি লাভ করে। উদ্দেশ্য ছিল হাওরের জলজ বাস্তুতন্ত্র, দেশীয় মাছ, অতিথি পাখি ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেওয়া।কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ,স্বীকৃতি ও সুরক্ষা কাঠামো থাকা সত্ত্বেও হাওরে অব্যাহত রয়েছে অবৈধ মাছ শিকার,জলজ উদ্ভিদ নিধন, অপরিকল্পিত পর্যটন,শব্দদূষণ এবং মাটি কেটে ভরাটের প্রবণতা। এতে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে হাওরের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ পরিবেশ।একসময় শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমনে মুখর থাকত টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান। একইভাবে দেশীয় মাছের প্রাচুর্যও কমে এসেছে, অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা অনুকূল তালুকদার সহ একাধিক সচেতন মহল বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা,নিষিদ্ধ সরঞ্জাম চায়না দোয়ারি জাল,কারেন্ট জাল,মশারিজাল,ইলেক্ট্রিক শক মেশিন দিয়ে অবাধে মৎস্য আহরণ হয়,এছাড়াও হাওরে সংরক্ষিত কান্দাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গরু-মহিষের বিচরণ,যাহা হাওর পারের একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসে।তাদের মতে নজরদারির অভাবে হাওরে দীর্ঘদিন ধরেই এসব ধ্বংসযজ্ঞ চলছে,এতে হাওর তার স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে।তাদের ভাষ্য, ECA ও রামসার স্বীকৃতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নেই। টাঙ্গুয়ার হাওরে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই হাওরের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।অন্যদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা সোলাইমান হোসেন নামের এক পরিবেশকর্মী বলেন,দিবস পালন হচ্ছে,স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে হাওরের পরিস্থিতির পরিবর্তনের বদলে দিনের পর দিন অবনতি হচ্ছে। প্রকৃতি রক্ষায় কাগজে-কলমের উদ্যোগ নয়,দরকার দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ।পরিবেশবিদদের মতে, শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা প্রকল্প যথেষ্ট নয়। কঠোর আইন প্রয়োগ,নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের উৎসবের ভিড়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের বাস্তবতা যেন এক নীরব সতর্কবার্তা—উদযাপন নয়, এখনই কার্যকর সুরক্ষাই সবচেয়ে জরুরি।





























