
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাইসিকিউরিটি) থেকে প্রায় ১ হাজার কেজি চাল বাইরে আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি ইজিবাইক ভ্যানে করে কারাগারের ভেতর থেকে চাল বের করা হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনকভাবে বিপুল পরিমাণ চাল বহনকারী একটি ভ্যানের গতিরোধ করে স্থানীয়রা চালগুলোর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় ভ্যানচালক সোহাগ জানান, তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোড়ক পরিবর্তন করা চালের বস্তা নিয়ে এসেছেন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কারাগারের গুদামের দায়িত্বে থাকা নাজিরুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি চালগুলো ক্রয় করেছেন। তবে চাল বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন এবং জেলার মামুন ও নাজিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। সাংবাদিকরা পরে নাজিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত আর উপস্থিত হননি বলে জানা যায়।অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে অবস্থানকালে মনির হোসেন বিভিন্ন স্থানীয় নেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার ফোন করে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত জনতার মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর কোনাবাড়ী মেট্রো থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ ৪০ বস্তা চাল, যার মোট ওজন প্রায় ১ হাজার কেজি, জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। জব্দকৃত চালের উৎস, সংরক্ষণ ও বিক্রির বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।ঘটনার পর কারাগার থেকে বের করা চালের উৎস, বস্তা পরিবর্তনের কারণ এবং বিক্রির নিয়মকানুন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কম দামে রেশনজাতীয় পণ্য সংগ্রহ করে বস্তা পরিবর্তনের মাধ্যমে বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীকে কালোবাজারির অভিযোগে লালমনিরহাট কারাগারে বদলি করা হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ এর ডেপুটি জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত রেশন বিক্রির সুযোগ রয়েছে। তবে বস্তা বা মোড়ক পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই।”তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে ঘটনার পর এলাকাবাসী, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জব্দ হওয়া চালের প্রকৃত উৎস, বিক্রির বৈধতা, মোড়ক পরিবর্তনের কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা হলে জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। তাই কাশিমপুর কারাগার থেকে চাল বের হওয়ার এ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় জনগণ।




























